April 15, 2026, 3:44 am

সংবাদ শিরোনাম
অধিকার না ব্যবসা? ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের অন্ধকার অর্থনীতি রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

বসত বাড়ীসহ কৃষি ধানী ও ফলের বাগান হুমকির মুখে : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলছে

বসত বাড়ীসহ কৃষি ধানী ও ফলের বাগান হুমকির মুখে
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব  চলছে
মোঃ জুলহাজুল কবীর নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

mostbet


শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত দিনাজপুর। সুগন্ধি আর কাঠারিভোগ ধান উৎপাদনের উর্বর ভূমি হচ্ছে দিনাজপুর। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার ফলে ধানের ও উন্নত মানের ফল বাগানের পাশে আইন অমান্য করে ইট ভাটা তৈরি করে ইট পোড়া আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এলাকার প্রভাবশালীরা ঝুঁকে পড়েছে অবৈধ ইট ভাটা নির্মানে। কৃষি অধিদপ্তরের প্রত্যয়ন ছাড়াই নবাবগঞ্জ উপজেলায়  ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ইটভাটা।

জ্বালানি হিসেবে কয়লা পোড়ার কথা থাকলেও ইট ভাটা মালিকেরা প্রকাশ্যে কাঠ পুড়ে প্রস্তুত করছে ইট। এলাকার কৃষকেরা অভিযোগ করে জানান, ইট ভাটা মালিকেরা বসৎবাড়ী পর্শে ,আবাদি কৃষি জমিতে একের পর এক গড়ে তুলছে ইট ভাটা যার কারনে দিন দিন কমে যাচ্ছে আবাদি কৃষি জমি। ফল বাগান মালিক মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, যে বাগান থেকে প্রতিবছর হাড়িভাঙ্গা, আ¤্রুপালিসহ উন্নত প্রজাতির আম লিচু উৎপাদন হয়ে থাকে সে বাগান এবং বসৎ বাড়ীর সংলগ্ন এলাকায় কিভাবে নির্মান হয় ইট ভাটা। এদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার ২নং বিনোদনগর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামরে শতাধিক কৃষক জানান, গ্রাম ও কৃষিজমিতে ইটভাটা নির্মান করার সময় তারা স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলেও ইট ভাটা নির্মান তো বন্ধ তো দুরের কথা অভিযোগ দেওয়ার কারণেই দ্রুত নির্মান সম্পূর্ন হয়েছে।

এদিকে গত ২৫/০৭/২০১৭ ইং উপজেলার বৈধ ইট ভাটা মালিকেরা দিনাজপুর জেলা প্রশাসক বরাবরে অবৈধ ইট ভাটা তদন্তের জন্য আবেদন করে। অভিযোগে বলা হয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলার আধুনিক প্রযুক্তির জিগগ্যাগ (হাওয়া) ইট ভাটা মালিকেরা জানান, তারা ৫-৬ বছর যাবৎ সরকার বাহাদুরকে ভ্যাট ট্যাক্স এবং প্রয়োজনীয় খাজনাদি পরিশোধের জন্য ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। চলতি মৌসুমে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে সরকারি বন এলাকা সংলগ্ন সরকারের নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে অবস্থানগত ছাড়পত্র ছাড়াই যেখানে সেখানে ইট ভাটা নির্মান করেছে।

ইট ভাটাগুলোতে প্রকাশ্য খড়ি দিয়ে ইট পোড়ানো শুরু করেছে। অভিযুক্ত ভাটাগুলো হলো আর এম এ, ডব্লিউ আর আর, এম এম বি, এম এস বি,এ ও এল,ডব্লিউ এস  আর, এফ পি ডি, আর এম এ এছাড়াও পতিœচান, রামভদ্রপুর ও চকদলু হেয়াতপুর হরিরামপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইট ভাটা। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ প্রযুক্তি ভিত্তিক ইট ভাটা মালিক সমিতির সাধারন সম্পদাক মো. হাফিজুর রহমান জানান, কাঠ পোড়া ইট ভাটা গুলো সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে  এবং ভ্যাট ফাকি দিয়ে ইট প্রস্তুত করে ব্যবসা শুরু করছে। ওই সমিতির সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন এবং আজিজুল হক জানান, আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে ইট পুড়ছি। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স কর ও লাইসেন্স ছাড়াই ইট পুড়ছে।

জিগজ্যাগ ভাটা মালিকেরা জানান, গত বছরের প্রতি টন কয়লা ৭ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছিল। বর্তমানে তা দিগুণে পরিনত হয়ে ১৭ হাজার টাকায় প্রতি টন কয়লা কিনতে হচ্ছে। উচ্চ মূল্যে কয়লা পুড়ে ইট প্রস্তুত করে বিক্রি করতে গেলে ইটের দামও বেড়ে যাবে। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. আরাফাত হোসেনের সাথে যোগাযেগা করা হলে তিনি জানান, চলতি বছরে অবৈধভাবে নির্মিত দুটি ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেছি। এলাকার কৃষকদের দাবি কৃষি ফসলি ধানী জমি ও ফলের বাগান ধ্বংস করে যারা ইটভাটা নির্মান করছে তাদের বিষয়ে এখনি ব্যবস্থা না নিলে কৃষি ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ে যাবে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর